হঠাৎ বিয়ে – Romantic Valobasar golpo

হঠাৎ বিয়ে
Sûmøñ Ãl-Fãrâbî

  • ভাইয়া একটা হেল্প করবেন? ( একটা মেয়ে)
  • ও হ্যালো আমি আপনার কোন জন্মের ভাই?
  • সরি। আসলে একটা ঠিকানা…..
  • ওহ। ওকে বলেন
  • কাশেম আংকেল এর বাসা কোনটা?
  • আমাদের এলাকায় কাশেম বলে একজন আছে কিন্ত কাশেম আংকেল বলে কেউ নাই।
  • ওহহ। তো ওনার বাসা কই?
  • উনি কে হয় আপনার?
  • অনেক কিছু
  • না বললে বলবো না
  • ওকে ওকে। উনি আমার হবু শ্বশুড়।
  • কিহহহহ?
  • আপনি চমকে গেলেন কেন ?
  • ওনার তো দুই টা ছেলে।
  • হুম।
  • তো আপনি কোনটার দফারফা করতে আসছেন ?
  • এসব কি বলছেন ? আমি ওনার বড় ছেলের হবু বউ।
  • মাম্মি বাচাও
  • কি হলো ?
  • কিছু না।
  • ঠিকানা টা?
  • সামনে গিয়ে একটা বাগান আছে। বাগানের সাথে যে বাড়িটা
  • বুঝছি ।
  • কি বুঝছেন ?
  • ঐ বাসাটা
  • জী না। ওর পাশে যে বাসাটা আছে ঐটা ।
  • ওহ। ধন্যবাদ ।
  • আর ধন্যবাদ? লাইফের বারোটা বাজাতে এসে ধনী ।
    • কিছু বললেন
  • কই না তো । আপনি যান।
    মেয়েটা দেখতে অনেক কিউট ।
  • হ্যালো সুমন কই তুই
  • গালস্ কলেজের সামনে
  • তোরে না বলছি মিথ্যে কথা বলবি না।
  • কেন তোমার ছেলে কি হাজী। যে মেয়ে দেখতে পারে না ।
  • তা কেন হবে ? আমার ছেলে যদি ভালো হয় তাহলে তো পৃথিবী তে কোনো ফাজিল ছেলেই নাই ।
  • তে
  • আমাদের এলাকায় তো বাবা কোনো গালস্ কলেজ ও নাই ।
  • তো কি হইছে প্রাইমারী তো আছে ।
  • বেশি কথা না বলে তাড়াতাড়ি বাসায় আয়।
  • কেন
  • দরকার আছে

কি আর করার বাসায় গেলাম ।
– সুমন ও হচ্ছে…..
– আপনি ( মেয়ে টা)
– তুমি ওকে চিনো ( আম্মু)
– হ্যা আম্মু। উনি তো আমায় বাসা দেখাই দিলেন ।
– ঐ হারামজাদা সাথে করে নিয়ে আসলে তো পারতি।
– ওকে চলেন ( আমি )
– চলেন মানে? কই যাবে
– যেখানে আমার সাথে দেখা হয়েছিল সেখানে ।
– কেন ?
– ওখান থেকে আবার সাথে করে নিয়ে আসবো ।
– সব সময় তোর ফাজলামি । ওর নাম জানিস
– জরিনা নাকি সখিনা
– আম্মুউউউ( মেয়েটা )
– ঐ বদমাশ এতো সুন্দরী মেয়ের নাম ও সব হয়। ওর নাম জারা।
– ঐ একই কথা ।
– ফাজলামি করবি না। তোরা কথা বল।
– আচ্ছা আমায় দেখতে কেমন? ( জারা)
– কখনো পেত্নী দেখেছেন ?
– না কেন ?
– পেত্নী দেখবেন ?
– ভয় পাবো না তো
– আরে না
– তাহলে দেখবো
– ঐ রুমে গিয়ে আয়নার সামনে দাড়াবেন তাহলে দেখতে পাবেন ।
– এখনি যাবো ।
– হ্যা।
– তুমিও চলো আমার সাথে।
– না। এসব একাই দেখতে হয়
– ওকে।
একটু পরে
– তুমি মিথ্যে বললে কেন
– কই? কেন পেত্নী দেখো নাই ?
– না।
– আয়নায় তাকাইছিলে
– হুম
– কি দেখছো
– আমাকে
– তুমি দেখি পেত্নী ও চেনো না।
– কি আমি পেত্নী?
– নিজেকে চিনতে কেউ এতো সময় নেয়
– কি? তবে রে দাঁড়াও দাঁড়াও বলছি
কে আর কাকে ধরতে পায়।
– আম্মু আমি আজকেই চলে যাবো
– কেনো রে মা।
– তোমার ছেলে আমায় পেত্নী বলছে
– সত্যি
– হুম ।
– আমার ছেলেকে কি তোর পছন্দ হয়েছে ?
– হুম। কিন্ত ও তো আমায় পছন্দ করে না ।
– কে বললো
– ঐ তো আমায় পেত্নী বললো।
– ও তাকেই পেত্নী বলে যাকে ওর ভালো লাগে ।
– কেন ?
– যাতে সে বুঝতে না পারে তাকে সুমনের ভালো লাগে ।
– ওহ।
– এখন তুই যদি যেতে চাস যা।
– তবুও আমি চলে যাবো ।
– তাহলে সুমনের বিয়ে উমার সাথে দিতে হবে ।
– উমা কেন ?
– তুই তো বিয়ে করবি না। ওর তো বিয়ে দিতে হবে
– আমি কখন বললাম বিয়ে করবো না।
– তো তুই বিয়ে করবি
– জানিনা।
– ওমা এ দেখি লজ্জা ও পায়।
রাতে বাসায় আসলাম । খাওয়া করে রুমে ঘুমাতে গেলাম।
-আমার বেডে কে রে?
– কে রে আবার কি? ভালো করে কথা বলতে পারো না।
– ওহহ পেত্নী তুমি
– হ্যা আমি ।
এমন সময় ফোন টা বেজে ওঠে
– হ্যা বল।
– কই তুই
– বাসায়।
– ওহ। ওকে কাল কথা হবে ( ফোন কেটে দিছে রাফি)
– তোর বাসায় আসতে হবে বলবি না আগে
-………..
– তো তুই মেয়ে হইছিস বলে কি হইছে ? কে কি বলবে আমি দেখবো।
-………
– তুই আবার রাতে আমায় মিস করা শুরু করলি কবে থেকে ।
-……….
-কি ভালোবাসি ভালোবাসি বলছিস দাড়া আমি আসছি
ফোন কান থেকে সরালাম। আমি জানি জারা আমায় দেখছে। ওকে জ্বালানোর জন্য এমন করলাম।
– কই যাবে তুমি
– একটা বন্ধু র বাসায়
– বন্ধু নাকি প্রেমিকা
– এখনো হয় নি তবে হয়ে যাবে
– কয়দিন পর তোমার সাথে আমার বিয়ে আর তুমি প্রেমিকা বানাবা।
– ওহ। ওকে তাহলে আমি বলে দেব আদর টা যেন ৫০-৫০ ভাগ করে নেয়। ভালো মেয়ে। তোমায় ৫০ দিবে ।
– আমার পুরো চাই । আম্মু আম্মু
– কি হইছে
– আমি আজ এই খানে থাকবো
– কি বলিস
– হ্যা।
– তোদের তো বিয়ে হয় নি।
– তো হবে তো
– হুম তখন থাকবি।
– তোমার ছেলে যেন আজ বাসা থেকে না বের হয়।
– কেন
– যদি বের হয় তবে কিন্তু আমি ছাদ থেকে ঝাপ দিবো।
– সুমন
– হ্যা আম্মু
– শুয়ে পড়।
– ওকে ।
– চল পাগলী ।
পরের দিন সকাল ১১ টায় উঠলাম।
– আম্মু ও আম্মু
– কি হইছে ষাড়ের মতো চেচাচ্ছিস কেন
– কি আমি ষাড়? যাই হোক বাসায় এতো কথা কে বলে
– তোর শালী
– বিয়ে করলাম কবে
– করিস নি তবে আজ করবি
– কাকে
– জারা কে
– আম্মু তোমার ছেলে দেখো এখনো ছোট
– জানি । তাই বড় করার জন্য তো বিয়ে দিচ্ছি ।
– বিয়ে টা না করলে হয় না।
– না হয় না
– আমি বিয়ে করবো না
– তোর বাপ বিয়ে করবে আর তুই ।
– তাই । আব্বু রেডি হয়ে যাও আমি কাজী নিয়ে আসছি।
– আবার
– আম্মু বলছিলাম কি
– রেডি হও
– আম্মু শোনওওওও………………… কই আম্মু কাপড় কই।
– কেন বাবা ভয় লাগে
– কিশের ভয় বলির পাঠা তো বানাইছো বলি তো হতেই হবে ।
– এই তো বুঝছিস
– হুম ।
– তাড়াতাড়ি আয়।
– কেন আম্মু বলির কি কোনো লগ্ন আছে নাকি?
– কি বলি বলি করছিস
– সরি বিয়ের
– বিয়ে বিকেলে হবে ।
– আমার বন্ধু দের নিয়ে আসি
– ওরা সবাই আসছে ।
– বাহ। ভালো তো বাঁচার একটা রাস্তা ও রাখো নাই
– হুম ।
কি আর করার রাতে একটু ফাজলামি করতে গিয়ে হঠাৎ বিয়ে করতে হলো।।।।।।।

Related Posts

2 thoughts on “হঠাৎ বিয়ে – Romantic Valobasar golpo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *