অসমাপ্ত ভালোবাসা পর্ব-১ | Koster valobasar golpo

গল্পঃ অসমাপ্ত ভালোবাসা
#পর্ব_০১ (জুয়েল)

পার্কের মধ্যে হাটতেছি এমন সময় একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেলাম। আসলে আমি মোবাইলে কথা বলতে বলতে হাটতেছি তাই খুব একটা খেয়াল করিনি।

ধাক্কা খেয়ে আমার মোবাইলটা নিচে পড়ে যায়, আর খেয়াল করে দেখলাম মেয়েটাও পড়ে যায়, পায়ে হাই হিল থাকায় নিজেকে সামলাতে পারেনি।

আমিঃ এই সরি সরি, আমি আসলে খে…….

পুরোটা বলার আগেই বাক রুদ্ধ হয়ে যাই। কারন যার সাথে ধাক্কা খেলাম সে আর কেউ নয়। সে হচ্ছে ইকরা, এক সময় যাকে আমি নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসতাম। এখনো বাসি কিন্তু সেটা নিজের মনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ইকরাও আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। আসলে ৫ বছর পর দেখা, সব কিছু পালটে গেছে।

দুজন দুজনের দিকেই তাকিয়ে রইলাম, কেউ কাওকে কিছু বললাম না।

কিছুক্ষণ পর একটা মেয়ে এসে ইকরাকে নিয়ে যায়, সে হাটছে আর আমার দিকে চেয়ে আছে, আমিও আর একবারের জন্য অন্য দিকে তাকাইনি।

ইকরা সেই আগের মতোই আছে, আগে থেকে আরো সুন্দর হয়ে গেছে। আসলে হওয়ারই কথা, আমার কথা এতো দিনে ভুলে গেছে,,,,

আমি মোবাইলটা মাটি থেকে নিলাম, দেখলাম মোবাইলটা ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গা মোবাইল টা নিয়ে পার্ক থেকে বের হয়ে গেলাম।

একটা দোকানে গেলাম, এক প্যাকেট সিগারেট নিলাম। কারন ইকরারর স্মৃতি গুলো আজকে আমাকে ঠিক রাখতে দিবে না। ইকরাকে ভুলার জন্য একমাত্র সিগারেট আমার সঙ্গি।

সিগারেট নিয়ে বাসায় চলে গেলাম। গোসল করে ঘুমাতে গেলাম কিন্তু ঘুম আসছে না। বার বার ওর স্মৃতি গুলো মনে পড়তে লাগলো।

ওর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুম চলে আসলো, ঘুম থেকে উঠে দেখি মাগরিবের আজান দিয়ে দিছে। আমি অজু করে নামাজ পড়ে নিলাম।

নামাজের মধ্যেও আজকের ঘটনাটা মনে পড়তে লাগলো।

নামাজ শেষ করে ছাদে চলে গেলাম, এক কোনায় গিয়ে বসলাম, তারপর একটা সিগারেট ধরালাম আর টানতে লাগলাম।

চলেন এবার আপনাদের পরিচয় টা দিয়ে দিই, আমি জুয়েল। পড়ালেখা শেষ করে আপাতত একটা প্রাইভেট কোম্পানির এমডি।

বাসায় শুধু আমি নিজেই, হুম পরিবার আছে, কিন্তু থেকেও নেই। আর আমিও মনে করি আমার কেউ নেই। একা একা থাকি, আর আজকে যার সাথে ধাক্কা খেলাম সে হচ্ছে আমার এক সময়ের ভালোবাসা, অনেক ভালোবাসতাম ইকরাকে। নিজের চাইতেও বেশি, সেও আমাকে ভালোবাসতো। কিন্তু মন থেকে বাসতো কিনা সেটা আজও অজানা। ইফরার আরো একটা পরিচয় আছে সেটা হচ্ছে ইকরা ভাইয়ার শালি। মানে ভাবির ছোট বোন, আর সেজন্যই দুজনের মাধ্যে এতো দূরত্ব।

চলেন আপনাদের পুরো বিষয়টা বুঝিয়ে বলি, তাহলে বুঝবেন….

******* ৫ বছর আগে ********

রাতে পড়তেছি এমন সময় ভাইয়া রুমে আসলো…

ভাইয়াঃ কিরে জুয়েল কি করিস?

আমিঃ কিছু না, পড়তেছি। কখন আসলি বাসায়?

ভাইয়াঃ এই তো এই মাত্র। পড়ালেখার কি অবস্থা?

আমিঃ ভালোই। তোর জন্য তো খুশির খবর আছে।

ভাইয়াঃ তাই নাকি? কি সেটা শুনি একটু।

আমিঃ আগে ৫০০ টাকা দে, তারপর।

ভাইয়াঃ তোর সব জায়গায় ধান্ধা বাজি না করলে হয় না।

আমিঃ আচ্ছা যা তোর কোনো খবর শুনতে হবে না।

ভাইয়াঃ আচ্ছা ঠিক আছে দিবো, বল এখন কি খুশির খবর।

আমিঃ তোর বিয়ে!

ভাইয়াঃ বিয়ে মানে?

আমিঃ বিয়ে মানে বিয়ে।

ভাইয়াঃ কই আমি তো কিছু জানি না। তুই কেমনে জানলি।

আমিঃ আরে আমিও জানতাম না, আব্বু আম্মু বলাবলি করছিলো তখন শুনে ফেলেছি।

ভাইয়াঃ ওও।

আমিঃ কিরে তোর মুখ কালো হয়ে গেলো? পছন্দ আছে নাকি?

ভাইয়াঃ আরে না, থাকলে তো সবার আগে তুই নিজেই জানতি।

আমিঃ হুম সেটাও ঠিক, তুই কাওকে না বললেও আমাকে বলতি। তাহলে এমন মুখ করে আছিস কেন?

ভাইয়াঃ আসলে বিয়ে করতে ইচ্ছা করছে না।

আমিঃ তুই পাগল নাকি? আমাকে যদি আব্বু আম্মু বলতো এক্ষুনি বিয়ে করে ফেলতাম। ইশ কতো স্বপ্ন আছে বিয়ে নিয়ে।

ভাইয়াঃ তাই নাকি? তাহলে তুই বিয়েটা করে ফেল।

আমিঃ পাগল নাকি, আব্বু আম্মু মাইর দিবে।

ভাইয়াঃ আমি উনাদের বলে দিবো।

আমিঃ দরকার নেই তোর এতো কষ্ট করার, সময় হলে সব হবে।

ভাইয়াঃ যাক অবশেষে,,,

আমিঃ অবশেষে কি?

ভাইয়াঃ কিছু না (মুছকি হাসি দিয়ে)

আমিঃ বাহ! এখন থেকেই তোর লাড্ডু ফুটতে শুরু করলো।

ভাইয়াঃ এই তুই বেশি ফাজিল হয়ে গেছিস। আমি তোর বড়, সম্মান দিবি।

আমিঃ কচু দিবো। তোর বউয়ের সামনে তোকে পিটাবো দেখিস।

ভাইয়াঃ তোর ভাবি তোকে মাইর দিবে।

আমিঃ মাইর দিবে না, ভাবি আদর দিবে। বলবে আমার ছোট্ট ভাইয়া টা, হিহিহি।

আচ্ছা আপনাদের তো ফ্যামিলির কথা কিছুই বলা হয়নি।

ফ্যামিলিতে আমি আব্বু আম্মু আর ভাইয়া। আব্বু আগে ছোট একটা চাকরি করতো, অসুস্থতার জন্য ছেড়ে দিয়েছে। আসলে আব্বু ছাড়তে চায় নি। ভাইয়া পড়ালেখা শেষ করে ব্যাংকে চাকরি পায়, সে থেকে আব্বুকে আর কিছু করতে দেয় না। ভাইয়া চাকরি পেয়েছে ১ বছরের মতো হবে।

আব্বুকে সবাই অনেক ভয় পায়, আব্বুর ভয়ে ভাইয়া কখনো কোনো মেয়ের সাথে মিশেনি ফ্রেন্ডশিপ তো দূরের কথা। ভাইয়া আর আমি ফ্রেন্ডের মতোই চলি। এতো বড় হয়েছে তারপরেও আমার সাথে ঘুমায়। আর ওর যত কথা আছে সব আমার সাথে শেয়ার করে, আমিও করি। দুই ভাই সারা দিন টম&জেরির মতো লেগে থাকি।

ভাইয়ার সাথে কথা বলতেছি এমন সময় আম্মু রুমে আসলো…

আম্মুঃ এই তোরা এখানো বসে আছিস? সেই কখন থেকে ডাকছি।

ভাইয়াঃ আচ্ছা আসছি, তুমি যাও।

আম্মুঃ তাড়াতাড়ি আয়।

ভাইয়াঃ হুম, এই ওঠ, পরে পড়িস।

উঠে খেতে গেলাম। খাওয়ার মাঝখানে আব্বু বললো…

আব্বুঃ রুবেল (ভাইয়ার নাম)

ভাইয়াঃ জ্বি আব্বু বলেন।

আব্বুঃ পড়ালেখা তো অনেক আগেই শেষ করলি, চাকরিও পাইছিস। আর কতো বসে থাকবি, তোর আম্মুও অসুস্থ হয়ে গেছে, এবার অন্তত বিয়েটা কর।

ভাইয়াঃ আব্বু আর কিছু দিন যাক তারপর।

আম্মুঃ তুই এই কথা সব সময় বলিস। শোন আমরা তোর জন্য একটা মেয়ে দেখেছি।

আব্বুঃ মেয়েটা দেখতে শুনতে অনেক সুন্দর, ভালো ভদ্র মেয়ে। শিক্ষিত। আমার মনে হয় তোর জন্য পারফেক্ট হবে।

ভাইয়াঃ কিন্তু আব্বু!

আব্বুঃ কোনো কিন্তু না। কালকে আমরা ওদের বাসায় যাবো, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে কালকেই বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করে ফেলবো।

ভাইয়াঃ তোমরা যেটা ভালো মনে করো।

আম্মুঃ কালকে একটু তাড়াতাড়ি আসিস।

ভাইয়াঃ…. (হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো)

আমিঃ আমার কথা কিছু চিন্তাভাবনা করছো?

আম্মুঃ তোর কথা কি চিন্তা করবো?

আমিঃ না মানে, ভাইয়ার জন্য তো ঠিক করলে, এখন আমার জন্যও যদি কিছু একটা করতে।

আব্বুঃ রুবেল লাঠি টা নিয়ে আয়তো

আমিঃ এই না না, আমি তো মজা করছি।

তারপর খাওয়াদাওয়া শেষ করে রুমে গেলাম। ভাইয়াও আসলো, কেমন খুশি খুশি লাগছে। আমি বুঝছি কেন এতো খুশি, কিছু বললাম না।

রাতে ঘুমিয়ে গেলাম, ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে কলেজে চলে গেলাম।

কলেজ থেকে এসেই খাওয়াদাওয়া করলাম, কিছুক্ষণ পর ভাইয়াও আসলো। তারপর সবাই রেড়ি হয়ে নিলাম।

এরপর মেয়ে দেখতে বেরিয়ে গেলাম। গাড়িতে আমি আর ভাইয়া একসাথে বসলাম, এটা ওটা বলে ভাইয়াকে ক্ষেপাতে লাগলাম।

যাইহোক অনেকক্ষণ পর একটা বাসার সামনে গিয়ে গাড়ি থামলো, মনে হয় এটাই ভাবিদের বাসা।

গাড়িতে থেকে নামলাম, বাড়িটা খুব সুন্দর, তারপর আব্বুর পিছু পিছু বাসার সামনে গেলাম। কলিং বেল দেওয়ার কিছুক্ষণ পর একটা মাঝ বয়সি মহিলা এসে দরজা খুলে দেয়, মনে হয় উনিই মেয়ের মা। সবাই সালাম দিলাম।

উনি আমাদের হাসিমুখে ভিতরে নিয়ে গেলেন। বাসার ভিতর টা খুব সুন্দর করে সাজানো। মনে হয় আমরা আসবো জেনে আরো বেশি করে সাজিয়ে রেখেছে।

আমাদেরকে সোফায় বসতে বলে উনি ভিতরে চলে গেলেন।

ভিতরে গিয়ে সোফায় বসলাম, আমি আর ভাইয়া একসাথে বসে আছি, ভাইয়া এদিকওদিক চটপট করতে লাগলো…

আমিঃ কিরে কি হইছে?

ভাইয়াঃ কই কিছু না।

আমিঃ তাহলে এমন করিস কেন? ভাবি আসবে তো একটু ওয়েট কর। এতো তাড়া কিসের।

ভাইয়াঃ সব জায়গায় ফাজলামি না করলে হয় না?

আব্বুঃ কি হইছে তোদের, এখানেও এমন করতেছিস। ওরা কেউ দেখেল কি বলবে?

আমি আবার চুপ করে রইলাম। কিছুক্ষণ পর একটা আংকেল আসলো, বাবাকে দেখেই কোলাকোলি শুরু করে দিলো। এমন ভাবে কথা বলছে যেন মেলায় হারিয়ে যাওয়া দুই ভাই।

আমরাও আংকেল এর সাথে কথা বলে নিলাম। আমি এদিকওদিক তাকাচ্ছি কোনো মেয়ে আছে কিনা খুঁজতেছি।

প্রায় ১ ঘন্টা পর মেয়ে মানে ভাবিকে নিয়ে আসা হলো, ভাবি চা হাতে নিয়ে আসলো। ভাবিকে দেখে আমি নিজেই ক্রাশ খেলাম। ভাইয়া হা করে তাকিয়ে আছে,,,

আমি একটা টোকা দিয়ে বললাম।

আমিঃ এই মুখ বন্ধ কর, মশা ডুকবে মুখে।

ভাইয়া এবার নিজেকে সামলে নিলো। মেয়ে আমাদের সামনে বসলো, এরপর চূড়ান্ত কথাবার্তা শুরু হলো। এক পর্যায়ে ভাইয়া আর ভাবিকে ভিতরে পাঠালো আলাদা কথা বলার জন্য।

ভাইয়া আমাকেও ডাকতেছে। আব্বু চোখ রাঙ্গানো দেখে তাড়াতাড়ি মেয়েটার সাথে ভিতরে গেলো।

এরপর আংকেল আর আন্টি আমার বায়োডাটা নিলো, কি করি, কি খাই। মনে হচ্ছে দুলা ভাইয়া না, দুলা আমি নিজেই।

যাইহোক ভাইয়ারা কথা বলে আসলো। দেখলাম ভাইয়া অনেক খুশি, ভাইয়ার মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে। আমাদের মেয়ে পছন্দ হলো। উনাদেরও ভাইয়াকে পছন্দ হলো।

এবার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করার ফালা। অবশেষে ১ মাস পর বিয়ে ঠিক হলো।

তারপর আরো কিছুক্ষণ বসে বাসায় চলে আসলাম।

যাইহোক অবশেষে ভাইয়ার বিয়েটা ঠিক হলো, ভাইয়া আসার ভাবির মোবাইল নাম্বার নিয়ে আসলো, দিন রাত শুধু ভাবির সাথেই কথা বলে। আসলে অল্প পানির মাছ বেশি পানিতে গেলে যা হয় আরকি।

দেখতে দেখতে বিয়ের দিন খুব নিকটে চলে আসলো, বিকালবেলা আমি ছাদে বসে আছি এমন সময় ভাইয়া আসলো।

ভাইয়াঃ কিরে কি করিস।

আমিঃ সেটা তোর না জানলেও চলবে। যাহ তোর বউয়ের সাথে কথা বল।

ভাইয়াঃ নারে ও শুধু কল দেয়, তাই কথা না বলেও পারি না।

আমিঃ বিয়ের আগেই তোর এই অবস্থা বিয়ের পর কি করবি।

ভাইয়াঃ আচ্ছা বাদ দে চল।বাইরে থেকে ঘুরে আসি।

আমিঃ তুই যা, আমি যাবো না।

ভাইয়াঃ আরে চলতো।

ভাইয়া জোর করে বাইরে নিয়ে গেলো। বাইক নিয়ে বের হয়ে কিছুক্ষণ ঘুরলাম। তারপর একটা রেস্টুরেন্ট এর ভিতর গেলাম।

ভাইয়াঃ কি খাবি?

আমিঃ তোর যেটা মন চায় অর্ডার দে।

ভাইয়াঃ আচ্ছা দিতেছি।

ভাইয়া অর্ডার দিলো। খাওয়ার সামনে আসলো, খেতে খেতে ভাইয়া বললো…

ভাইয়াঃ তোর বন্ধুদের দাওয়াত দিয়েছিস?

আমিঃ না দিই নি।

ভাইয়াঃ কখন দিবি, আর তো বেশি দেরি নেই। কেনাকাটা আর কাজের চাপে সময় পাবি না।

আমিঃ হুম কালকে কলেজে গেলে দিয়ে দিবো।

ভাইয়াঃ হুম, তোর সব বন্ধুদের দিস। আর কালকে একটু কাজ করতে হবে।

আমিঃ কি কাজ?

ভাইয়াঃ কালকে তুই কার্ড বানাতে দিয়ে আসবি। তারপর তোর ফ্রেন্ড দুইটা আছে না কি যেন নাম, সারাদিন তোর সাথে থাকে যে?

আমিঃ সানি, আয়মান।

ভাইয়াঃ ওদের কে নিয়ে কয়েক জায়গায় গিয়ে বিয়ের দাওয়াত দিয়ে আসবি মানে কার্ড গুলো দিয়ে আসবি।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

ভাইয়াঃ হুম।

এরপর আরো কিছুক্ষন কথাবার্তা বলে বাসায় চলে আসলাম।

অবশেষে বিয়ের দিন চলে আসলো। সব মেহমান একের পর এক আসতে লাগলো। আমার বন্ধুরা সবাই আসলো। সানি, আয়মান, ফাহাদ, হাকিম, ইউসুফ, ফারুক সবাই আসলো।

বিয়েতে ওদের সাথে অনেক মজা করলাম, ফাহাদ আর সানি কয়েকটা মেয়েও পটাই ফেলছে। মহা ধুমধামে ভাইয়ার বিয়েটা শেষ হলো।

বিয়ের কিছুদিন পর ভাইয়া আর ভাবি কক্সবাজার গেলো ঘুরতে, আমাকেও যেতে বলেছে কিন্তু আমি যাই নি।

আমার সাথে মোবাইলে কথা হয় সব সময়, ভাবির সাথেও অনেক মস্করা করি, ভাবি আদর করে ছোট মিয়া ডাকে।

প্রায় ৮ দিন পর ভাইয়া আর ভাবি বাসায় আসলো। তারপর খুব সুন্দর ভাবেই দিব যেতে লাগলো।

বিয়ের প্রায় এক মাস পর, ভাবি আম্মুকে বললো….

ভাবিঃ আম্মু একটা কথা বলতাম?

আম্মুঃ হে মা বল।

ভাবিঃ আসলে বিয়ের পর থেকে তো আমাদের বাসায় যাই নি, সকালে আম্মু কল দিয়েছিলো আপনাদের সবাইকে নিয়ে যেতে বলেছে।

আম্মুঃ সবাই তো আর যাওয়া সম্ভব না, বাসা খালি হয়ে যাবে। তুই আর রুবেল যা। কয়েকদিন থেকে আয়। ভালো লাগবে।

ভাবিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

রাতে ভাইয়া আসলো, আম্মু ভাইয়াকে সব বুঝিয়ে বললো, ভাইয়া বললো ছুটি পেলে যাবে।

পরের দিন ভাইয়া অফিসে গিয়ে ৫ দিনের ছুটি নিলো। এরপর বাসায় আসলো।

ভাইয়াঃ আম্মু জুয়েল কই?

আম্মুঃ মনে হয় রুমে আছে, গিয়ে দেখ।

ভাইয়াঃ আচ্ছা।

ভাইয়া রুমে আসলো…..

ভাইয়াঃ কিরে কি করিস?

আমিঃ কিছু না। কখন আসলি?

ভাইয়াঃ এই মাত্র। শোন কালকে কাপড়চোপড় সব কিছু নিয়ে রেড়ি থাকবি।

আমিঃ কেন?

ভাইয়াঃ ইশিতাদের (ভাবির নাম) বাসায় যাবো।

আমিঃ তোর শ্বশুর বাড়ি তুই যা, আমি গিয়ে কি করবো?

ভাইয়াঃ যেতে বলেছি যাবি, এতো কথা বলিস কেন?

আমিঃ না আমি যাবো না।

ভাইয়াঃ ওকে তুই না গেলে আমিও যাবো না।

এমন সময় ভাবি রুমে আসলো…

ভাবিঃ কি ছোট মিয়া যাবে না কেন? বাসায় বউ আছে নাকি।

আমিঃ আসলে ভাবি,,,

ভাবিঃ এসব বলে লাভ নেই, তোমার কাপড়চোপড় আমি ব্যাগে নিয়ে নিচ্ছি। সকালবেলা রেড়ি থাকবে।

ভাবি আর কোনো কথা বলতে দিলো না। তারপর খাওয়াদাওয়া করে ঘুমিয়ে গেলাম।

পরেরদিন ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলাম। দেখি ভাইয়া আর ভাবি রেড়ি হয়ে বসে আছে। আমিও তাড়াতাড়ি গিয়ে রেডি হয়ে নিলাম।

তারপর বাইরে আসলাম, দেখলাম ভাইতা ব্যাগপত্র গুলো গাড়িতে উঠালো, তারপর ভাইয়া আর ভাবি দুজনে আব্বু আম্মুকে সালাম করে গাড়িতে উঠলো। আমি আম্মুকে বললাম “আমাকেও বিয়ে দাও, এভাবে সালাম করে শ্বশুর বাড়ি যাবো।””

সবাই হাসতে লাগলো। তারপর গিয়ে গাড়িতে বসলাম। ভাইয়া আর ভাবি পেছনে, আমি ড্রাইভারের সাথে। ড্রাইভার আগে থেকে পরিচিত, আমরা কোথাও গেলে উনার গাড়ি রিজার্ভ করি।

কথা বলতে বলতে ভাবিদের বাসায় চলে গেলাম। গাড়িতে থেকে নামলাম।

আমিঃ ভাইয়া তোরা যা,আমি ব্যাগপত্র নিয়ে আসছি।

ভাইয়াঃ তুই পারবি না। আমিও নিই,

আমিঃ পারবো তোরা যা।

ভাইয়াঃ আচ্ছা আয়।

ভাইয়া আর ভাবি হাটা দিলো, আমি গাড়ি থেকে ব্যাগ দুইটা নামালাম। তারপর ওগুলো নিয়ে ভিতরে গেলাম। বিয়ের পর এই প্রথম ভাবির বাসায় আসলাম। আগে এসেছিলাম বিয়ের আগে,,,,

ভিতরে গিয়ে ব্যাগ গুলো রাখলাম।

ভাইয়াঃ জুয়েল! তুমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো।

আমিঃ কোন রুমে।

ভাইয়াঃ ডান পাশের ওটাতেই যাও। ওখানে কেউ থাকে না।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

তারপর আমি ওই রুমটাতে গেলাম,,,,

ওয়াশরুমে গেলাম ফ্রেশ হওয়ার জন্য। ওয়াশ রুমের দরজা খুলেই একটা টাসকি খেলাম……

#চলবে…….
To be Continue….

Related Posts

One thought on “অসমাপ্ত ভালোবাসা পর্ব-১ | Koster valobasar golpo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *