অসমাপ্ত ভালোবাসা পর্ব-২ । Koster Valobasar golpo

গল্পঃ অসমাপ্ত ভালোবাসা
#পর্ব_০২ (জুয়েল)

অসমাপ্ত ভালোবাসা সকল পর্ব

(১ম পর্বের পর থেকে)

ওয়াশরুমে গেলাম ফ্রেশ হওয়ার জন্য। ওয়াশ রুমের দরজা খুলেই একটা টাসকি খেলাম।

ভিতরে একটা মেয়ে গোসল করতেছে, আমাকে দেখেই একটা চিৎকার দিলো। চিৎকার শুনে আমি দিলাম এক দৌড়।

মেয়েটা দরজা লাগিয়ে দিলো। চিৎকার শুনে সবাই রুমে আসলো, একটু পর মেয়েটাও বাহিরে আসলো। দেখতে মাশাল্লা,,,,

ভাইয়াঃ কিরে কি হইছে?

আমিঃ কিছু না।

ভাবিঃ তাহলে এতো জোরে চিৎকার দিলো কে?

আমিঃ উনি…(মেয়েটাকে দেখিয়ে দিলাম)

মেয়েঃ এই আপু এই ছেলেটা কে? আমার বেডরুমে কি করে!

ভাবিঃ আরে ও আমার দেবর। কেন কি করছে?

আমিঃ ভাবি আমি বলছি।

মেয়েঃ এই না না,,, (মেয়েটা আমার মুখ ধরে ফেললো)

কারন আমি যা দেখেছি সেটা যদি সবাইকে বলি তাহলে মেয়েটার মান ইজ্জতের ১২ টা বাজবে।

মেয়েঃ না আপু কিছু হয়নি, তেলাপোকা দেখেই আমি চিৎকার দিয়েছি। তোরা যা,,,

ভাবিঃ সেজন্য এইভাবে চিল্লাবি? আচ্ছা ডাইনিং রুমে আয়।

সবাই একে একে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো, আমিও বেরিয়ে গেলাম। আসলে এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে কেমন জানি অস্বস্তি লাগছে। আমি ডাইনিং রুমে চলে গেলাম।

সবার সাথে কথা বললাম, নাস্তা করে ভাইয়া আর ভাবি একটা রুমে গেলো। আমি ছাদে চলে গেলাম।

কেমন জানি বিরক্তি লাগছে এই বাসায়। ছাদে গিয়ে এক কোনে বসে আছি, কিছুক্ষণ পর ভাবি আসলো…

ভাবিঃ কি ব্যাপার ছোট মিয়া! মন খারাপ নাকি??

আমিঃ না ভাবি ঠিক আছি।

ভাবিঃ কিছু তো একটা হইছে, আমাকে বলো সমস্যা নাই।

আমিঃ আসলে ওই মেয়েটার চিল্লানি শুনে নার্ভাস হয়ে গেছি।

ভাবিঃ আরে ওটা মেয়ে না, আমার বোন। ওর নাম হচ্ছে ইকরা।

আমিঃ আপনার বোন আছে আগে তো বলেন নি? আর বিয়ের সময় ওতো দেখিনি।

ভাবিঃ আসলে ও হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করে আর বিয়ের সময় ওর এক্সাম ছিলো তাই আসেনি।

আমিঃ ও আচ্ছা।

ভাবিঃ ইকরা কি তোমাকে কিছু বলেছে?

আমিঃ নাহ।

ভাবিঃ আচ্ছা নিচে চলো।

ভাবির সাথে নিচে চলে গেলাম। ভিতরে গিয়ে দেখি মেয়েটা মানে ইকরা ভাইয়ার সাথে ভাব জমাইছে। বসে বসে টিভি দেখতেছে।

আমি গিয়ে ভাইয়ার সাথে বসলাম….

ভাইয়াঃ কোথায় গিয়েছিলি?

আমিঃ ছাদে।

ভাইয়াঃ আচ্ছা পরিচয় করিয়ে দিই এই হচ্ছে আমার একমাত্র শালি ইকরা। আর ইকরা এ হচ্ছে আমার আদরের ছোট ভাই, কলিজার টুকরা জুয়েল।

আমিঃ হ্যালো বেয়ান!

ইকরাঃ হুহ! (গাল ভেটকি দিয়ে)

আমিঃ আমি কিছু বললাম না।

দুপুরে খাওয়াদাওয়া করলাম, গিয়ে সোফায় বসলাম।

আমিঃ ভাইয়া শোন!

ভাইয়াঃ কিছু বলবি?

আমিঃ আমার ভালো লাগছে না, আমি বাসায় চলে যাবো।

ভাইয়াঃ পাগল হলি নাকি, তুই আমাদের সাথেই থাকবি। আর আমাদের সাথেই বাসায় যাবি।

আমিঃ নারে তোরা থাক আমি গেলাম।

ভাইয়াঃ চুপ কর, আব্বুকে বলে দিলে মাইর দিবে। কয়েকদিন গেলে ভালো লাগবে।

কিছু বললাম না, এভাবে বিকাল টা কাটলো। রাতে আমি ছাদে গেলাম। বসে বসে গান গাইতেছি এমন সময় ইকরা আসলো…

ইকরাঃ গান তো ভালোই গাইতে পারেন।

আমিঃ…. (উঠে চলে যাচ্ছিলাম)

ইকরাঃ এই বসুন। কোথায় যাচ্ছেন।

আমিঃ নিচে।

ইকরাঃ নিচে কি? বসুন এখানে।

আবারও বসলাম।

ইকরাঃ সরি!

আমিঃ সরি কেন?

ইকরাঃ দুলাভাইর সামনে আপনার সাথে এমন ভিহ্যাব করার জন্য।

আমিঃ ইটস ওকে।

ইকরাঃ আপনার নামটা যেন কি?

আমিঃ জুয়েল!

ইকরাঃ পড়ালেখা কিসে করেন?

আমিঃ অনার্স ২য় বর্ষ।

ইকরাঃ গুড। আপনি বোকা নাকি?

আমিঃ হঠ্যাৎ এই প্রশ্ন?

ইকরাঃ আমি সব কিছু বলছি আপনি তো কিছুই বলছেন না।

আমিঃ না এমনি, আচ্ছা আপনার সম্পর্কে বলেন।

ইকরাঃ আপুর থেকে জেনে নিয়েন।

এভাবে আরো কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললাম, মোটামুটি ভালোই লাগলো।

পরের দিন ইকরা আর আমি ঘুরতে বের হলাম, একটা রিক্সা নিয়ে ঘুরেছি। আস্তে আস্তে আমি মেয়েটার প্রতি দূর্বল হয়ে গেছি।

এভাবে মজা মাস্তিতে ৫ দিন গেলো। আসার সময় ইকরার জন্য খুব খারাপ লাগলো, অনেক বার বললাম আমাদের বাসায় আসার জন্য।

বিদায় নিয়ে চলে আসলাম।

ভাবিঃ ছোট মিয়া কি অবস্থা?

আমিঃ অবস্থা তো ভালোই।

ভাবিঃ সেটা তো দেখতেছি। ভিতরে ভিতরে লাড্ডু ফুটতেছে। ঘটনা কি?

আমিঃ কিছু না।

ভাবিঃ আমাকে বলা যায় না?

আমিঃ হুম, ঘটনা হচ্ছে আপনার বোন আমার মন টা রেখে দিয়েছে।

হঠাৎ করে ভাবির মুখটা কালো হয়ে গেলো, মাইন্ড করলো কিনা কে জানে। মুখে হাসি রেখে বললো….

ভাবিঃ এতো সহজে ইকরা প্রেমে পড়বে না।

আমিঃ চেষ্টা করতে তো বাধা নেই।

ভাবিঃ তুমি জীবনেও পারবে না। ওরে পটানো এতো সহজ না।

আমিঃ আচ্ছা সময় হলে দেখা যাবে।

এভাবেই দিন যেতে লাগলো আমি বার বার ইকরাকে সরন করতে লাগলাম। আসার সময় ওর মোবাইল নাম্বার টা আনতে ভুলে গেছি। ভাবির কাছে লজ্জায় চাইতেও পারছি না।

কিছুদিন পর ভাবির আব্বু আম্মু আর ইকরা আমাদের বাসায় আসে। আমি তো মহা খুশি। আংকেল আন্টি চলে যায় ইকরা বাসায় থেকে যায়।

ইকরাকে দেখলে আমি স্পিকারে রোমান্টিক সব গান ছেড়ে দিতাম। ভাবি একবার বলেছিলো নীল শার্টে নাকি আমাকে অনেক সুন্দর দেখায়।

সেই থেকে নীল শার্ট টা পড়েই ইকরার সামনে ঘুরাফেরা করতাম। কিন্তু ইকরার মাঝে একটা পরিবর্তন খেয়াল করলাম।

সেদিন রাতে ইকরা আমাকে বললো…

ইকরাঃ এই যে মি. জুয়েল।

আমিঃ হুম বলেন।

ইকরাঃ আপনার কাছে কি শুধু একটাই শার্ট?

আমিঃ না কেন?

ইকরাঃ তাহলে সারাদিন এটা গায়ে দিয়ে রাখেন কেন?

এরপর থেকে প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় শার্ট চেইঞ্জ করতাম। শুধু ইকরার চোখে পড়ার জন্য।

একদিন রাতে ইকরাকে ছাদে ডেকে নিয়ে গেলাম।

আমিঃ আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো।

ইকরাঃ কি কথা বলেন।

আমি কোনো রকম ইতস্ত না করে ডাইরেক্ট বলে দিলাম।

আমিঃ আপনাকে আমি ভালোবাসি।

ইকরাঃ এটা সম্ভব নয়।

আমিঃ কেন?

ইকরাঃ এক ঘরে দুই বোন জীবনেও পসিবল না।

আমিঃ সেটা নাহয় আমার উপর ছেড়ে দেন। আপনি শুধু হ্যা অথবা না বলে দেন।

ইকরাঃ এখন না।

আমিঃ তো কখন?

ইকরাঃ দুই দিন পর।

আমিঃ এখন বললে সমস্যা কি?

ইকরাঃ আমাকে দুই দিন ভাবতে দেন।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

তারপর ইকরা নিচে চলে যায় আমি টেনশনে পড়ে গেলাম। ইকরা কি রাজি হবে নাকি হবে না সেটা নিয়ে চিন্তা হচ্ছে।

যাইহোক দুই দিন অনেক কষ্টে কাটালাম। তারপর ইকরাকে বললাম।

আমিঃ দুই দিন তো চলে গেলো। এবার উত্তর টা দেন।

ইকরাঃ আপনি যদি আমাকে একটু অন্যরকম ভাবে প্রপোজ করেন তাহলে একসেপ্ট করবো।

আমিঃ অন্যরকম মানে?

ইকরাঃ মানে যেই স্টাইলে কেউ কখনো কাওকে প্রপোজ করেনি আপনি আমাকে সেই স্টাইলে প্রপোজ করবেন। তাহলে আমি রাজি হবো।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে,,

আমি অনেক চিন্তা ভাবনা করলাম, বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলাম কিন্তু কিছুতেই কোনো কিছু মাথায় আসছে না।

অবশেষে একটা নতুন পদ্ধতি মাথায় আসলো, আমি সেই স্টাইলে প্রপোজ করে দিলাম।

ইকরা কয়েকদিন পর একসেপ্ট করলো, আমি খুশিতে শেষ। ফাইনালি ইকরা রাজি হলো।

ইকরা আর আমি হাত ধরাধরি করে হাটতেছি এমন সময় ভাবি দেখে ফেললো, তারপরেই….

#চলবে….
To be Continue…..

(অনেকে বলেছেন ইফতি নামটা চেইঞ্জ করার জন্য তাই ইকরা দিলাম)

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *