অসমাপ্ত ভালোবাসা পর্ব-৩ । Koster Valobasar golpo

গল্পঃ অসমাপ্ত ভালোবাসা
#পর্ব_০৩ (জুয়েল)

অসমাপ্ত ভালোবাসা সকল পর্ব

(২য় পর্বের পর থেকে)

ইকরা আর আমি হাত ধরাধরি করে হাটতেছি এমন সময় ভাবি আমাদের দেখে ফেলে। আমি ইকরার হাত ছেড়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি রুমে চলে গেলাম।

ভাবি কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কিছু না বলে নিজের রুমে চলে গেলো।

রাতে খেতে গেলাম সবাই, ইকরাও আছে।

ভাবিঃ ইকরা, আম্মু সকালে কল করেছিলো, তোকে চলে যাওয়ার জন্য বলেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে বাসায় চলে যাবি

ভাইয়াঃ সে কি সে আসছে কয়েকদিন থাকুক।

ভাবিঃ নাহ অনেক দিন থেকেছে, আর থাকার দরকার নেই।

ভাইয়াঃ এই জুয়েল!

আমিঃ হুম ভাইয়া বল।

ভাইয়াঃ সকালে ইকরাকে বাসায় দিয়ে আসিস। আমি বাইক রেখে যাবো,,,

ভাবিঃ সেটার কোনো দরকার নেই, ইকরা CNG নিয়ে চলে যাবে। অথবা তুমি যাওয়ার সময় নামিয়ে দিও।

ভাইয়াঃ কিন্তু আমার অফিস।

ভাবিঃ তাহলে ইকরা গাড়ি নিয়ে চলে যাবে।

আমি বুঝছি ভাবি কেন এমন করছে, ইকরাও বুঝছে। সে বার বার আমার দিকে তাকাতে লাগলো। আমি কিছু না বলে সোজা রুমে চলে গেলাম।

পরেরদিন ছাদে গিয়ে বসে আছি, ভাবি ইকরাকে একরকম জোর করেই বাসা থেকে বের করে দিলো। মেয়েটা বার বার আমার দিকে তাকাতে থাকলো।

ইচ্ছা করছে ইকরার হাত ধরে টেনে আবার বাসায় নিয়ে আসি, কিন্তু সেটা আর পসিবল না।

ভাবির চোখমুখ লাল হয়ে আছে। ইকরা চলে যাওয়ার পর আমারও মন খারাপ হয়ে গেলো। দুপুরে খেয়ে শুয়ে আছি এমন সময় ভাবি আমার রুমে আসলো।

তখন আব্বু আম্মু ঘুমে ছিলো, ভাইয়াও অফিসে। আমার রুমে আসার পর….

ভাবিঃ জুয়েল তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।

আমিঃ জ্বি বলুন।

ভাবিঃ দেখো জুয়েল! আমি ভেবেছিলাম তুমি ইকরার পেছনে পেছনে ঘুরবে সে জীবনেও তোমাকে মেনে নিবে না, কিন্তু কেন তোমাকে মিনে নিয়েছে সেটাই বুঝছি না।

আচ্ছা যাইহোক আসল কথা হচ্ছে তুমি ইকরার সাথে আর কোনো সম্পর্ক রাখবেনা।

আমিঃ কিন্তু ভাবি আমি সত্যি সত্যিই ইকরাকে অনেক ভালোবাসি।

ভাবিঃ দেখো এগুলো হচ্ছে আবেগ, ভালোবাসা বোঝার মতো বয়স তোমাদের এখনো হয়নি।

আমিঃ ভাবি ভুলে যাবে না আপনি আমার থেকে মাত্র ১ বছরের বড়। আর অনার্সে পড়ুয়া একটা ছেলে ভালোবাসা বুঝবে না এটা হতে পারে না।

ভাবিঃ দেখো এতো কিছু আমি বুঝি না, আমি চাই না তুমি ইকরার সাথে আর কোনো রকম সম্পর্ক রাখো।

আমিঃ ভাবি এটা আপনি কি বলছেন?

ভাবিঃ ঠিকই বলছি। আর যদি বাড়াবাড়ি করো তাহলে আমি সবাইকে বলে দিবো।

আমিঃ ভাবি আমার কথা টা শোনো।

ভাবি আর কোনো কথা না বলে রুম থেকে চলে গেলো। বুঝলাম না ভাবি এমন কেন করলো। আমি তো অতটা খারাপ ছেলে না যে ইকরার পাশে আমাকে কখনো মানাবে না। বা আমি ইকরার যোগ্য হয়ে উঠবো না।

ভাবতে ভাবতে ইকরার নাম্বারে কল দিলাম। নাম্বার টা বন্ধ।

আরো টেনশনে পড়ে গেলাম, কি করবো কিছুই বুঝতেছি না।

বিকালবেলা বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম, সানি আর আয়মানকে কল দিলাম। ওদের সাথে আড্ডা দিলাম সব কিছু শেয়ার করলাম। মোটামুটি নিজেকে হালকা লাগছে।

বাসায় যেতে যেতে প্রায় ১১ টা বেজে যায়, দেখলাম টেবিলে খাবার রেখে সবাই ঘুমিয়ে গেছে।

আমি খাওয়াদাওয়া করে যেই নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালাম তখন ভাইয়া আর ভাবির কথা শুনতে পেলাম।

আমি দরজার আড়াল হয়ে সব শুনতে লাগলাম।

ভাবিঃ এই তুমি জুয়েল কে এতো টাকা হাত খরচ দাও কেন?

ভাইয়াঃ মানে কি? আমি না দিলে কে দেবে,,,,

ভাবিঃ সে নিজে ইনকাম করতে পারে না?

ভাইয়াঃ সে এখনো লেখাপড়া করছে, শেষ করুক তারপর ইনকাম করবে। পুরুষ মানুষ তো আর বসে থাকতে পারবে না, একটানা একটা কিছু করতেই হবে।

ভাবিঃ তাই বলে এতো বড় হয়েও বসে বসে খাবে?

ভাবির কথা গুলো শুনে মাথায় রক্ত উঠে গেলো। বিয়ে হয়েছে এখনো ১ বছর হয়নি। তারমধ্যেই হিসাবনিকাশ শুরু করে দিছে? আব্বু যখন আমাদের দুই ভাইকে টাকা দিতো আমি নিজের জন্য অল্প রেখে বাকি গুলো ভাইয়াকে দিয়ে দিতাম যাতে সে বন্ধুবান্ধব নিয়ে ভালো ভাবে থাকতে পারে আর সেই ভাইকে ভাবি এসব উল্টাপাল্টা বুঝাচ্ছে।

আর এক সেকেন্ডও ওদের রুমের সামনে দাঁড়ালাম না, নিজের রুমে চলে গেলাম। পরে আর কি কি বলেছে কিছুই শুনিনি।

পরেরদিন সকালে ভাইয়া রেড়ি হচ্ছে অফিসে যাওয়ার জন্য…..

আমিঃ ভাইয়া কিছু টাকা দে, বাইরে যাবো।

ভাইয়াঃ কতো দিতাম?

আমিঃ দে তোর যা মন চায়।

ভাইয়া ২ হাজার টাকা আমার হাতে দিলো, এমন সময় ভাবি রান্না ঘর থেকে এক রকম দৌড় দিয়েই আসলো….

ভাবিঃ বলছিলাম কি, এতো টাকা দিয়ে ও কি করবে? ও ছোট মানুষ এতো টাকা হাত খরচ লাগে নাকি? ৫০০ দিলেই তো হয়।

ভাইয়াঃ আরে না, কি ৫০০ টাকা দিবে। সব গুলাই নিয়ে যা, শেষ হলে আমাকে বলিস।

ভাবি ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙ্গাতে শুরু করলো। আমি বিষয়টা খেয়াল করলাম। তারপর টাকা গুলো ভাইয়ার হাতে দিয়ে বললাম….

আমিঃ ভাইয়া, ভাবি আসলেই ঠিক বলেছে। আমি বাচ্ছা ছেলে এতো গুলো টাকা দিয়ে কি করবো? বাইরে নিয়ে গেলে হারিয়ে ফেলবো। তুই এক কাজ কর, টাকা গুলো তোর কাছে রেখে দে। আমি লাগলে তোকে বলবো।

ভাইয়া কিছু একটা বলতে চাইছিলো কিন্তু আমি সোজা রুমে চলে গেলাম।

তারপর থেকে ভাবির সামনে তেমন একটা যাই না। ভাইয়ার সাথেও খুব একটা কথা বলি না।

পরেরদিন শুক্রবার ছিলো, ভাইয়া বসে বসে টিভি দেখতেছে, আমি রুমে বসে গান শুনতেছিলাম এমন সময় আয়মান কল দিয়ে বললো বাইক নিয়ে বের হইতে, সানিও আছে। ভাইয়ার কাছে গেলাম…

ভাইয়াঃ কিরে, কোথায় থাকস। আয় বস এখানে,,,,

আমিঃ না ভাইয়া, বাইরে যাবো। বাইকের চাবিটা দে।

ভাইয়াঃ ঘুরতে যাবি নাকি?

আমিঃ হুম, আয়মান আর সানি নিচে দাঁড়িয়ে আছে।

ভাইয়াঃ তোর ভাবিকে বল দিতে। কালকে রাতে তোর ভাবিই বাইকের চাবি আমার থেকে নিয়ে কোথায় রাখছে।

আমার আর ভাইয়ার কথা গুলো ভাবি দরজার পাশে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনতেছিলো।

আমি আলমারির আয়নায় সব কিছু দেখেছি। আমি ভাউয়াদের রুমের সামনে গেলাম, দেখলাম ভাবি তাড়াতাড়ি করে বাইকের চাবিটা বালিশের নিচে লুকিয়ে ফেললো।

আমিঃ ভাবি চাবি টা দেন।

ভাবিঃ কিসের চাবি?

আমিঃ বাইকের।

ভাবি এদিকওদিক চাবির খুঁজার ভান ধরলো, কিন্তু একবারও বালিশের নিচে হাত দিলো না।

ভাবিঃ জুয়েল! চাবি তো খুঁজে পাচ্ছি না। তোমার ভাই কোথায় রেখেছে কে জানে।

আমি ভাবছি একবার বলে দিবো চাবিতো আপনি বালিশের নিচে লুকিয়ে রেখেছেন, পাবেন কি করে। কিন্তু এখন যদি এই কথাটা বলি তখন ভাবি বলবে তুমি দেখি আমার বালিশের নিচের খবরও জানো।

কিছু না বলে বাইরে চলে গেলাম। মন খারাপ দেখে সানি আর আয়মান বার বার জিজ্ঞেস করলো কি হইছে কিন্তু আমি কিছু বললাম না।

যতোই হোক, ঘরের কথা বাইরে বলা উচিত হবে না।

তারপর আরো কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে বাসায় চলে গেলাম।

পরেরদিন আমি কলেজে চলে গেলাম। ক্লাস শেষে বন্ধুদের সাথে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছি এমন সময় ভাবির নাম্বার থেকে কল আসলো,আমি ধরলাম না।

বার বার কল দিতে লাগলো, আমি সুইচ অফ করে রেখে দিলাম।

প্রায় ৩০ মিনিট পর মোবাইক ওপেন করলাম। দেখলাম অনেক গুলো কল এসে জমা হলো,,,,,

একটু পর ভাইয়া কল দিলো….

ভাইয়াঃ কিরে তুই কল ধরিস না কেন, আবার নাম্বারও বন্ধ।

আমিঃ ভাইয়া ক্লাসে ছিলাম। বল কি হইছে?

ভাইয়াঃ তাড়াতাড়ি বাসায় যা, তোর ভাবি নাকি মাথা ঘুরে পড়ে গেছে।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে যাচ্ছি।

কল কেটে দিয়ে সানি আর আয়মানকে নিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় গেলাম। ভাবি শুয়ে আছে, তাড়াতাড়ি একটা গাড়ি নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।

ভর্তি করিয়ে আমরা বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলাম, একটু পর ভাইয়াও চলে আসলো।

ভাইয়াঃ কিরে কি হইছে?

আমিঃ তেমন কিছু না, মনে হয় মাথা ঘুরেছে।

ভাইয়াঃ ডাক্তার কিছু বলেছে।

আমিঃ না।

সানিঃ ওই যে ডাক্তার আসছে, চলেন গিয়ে কথা বলি।

ভাইয়াঃ ডাক্তার সাহেব ইশিতার কি অবস্থা?

ডাক্তারঃ ভালোই, তেমন কিছু হয়নি। রুগি আপনার কি হয়?

ভাইয়াঃ জ্বি আমার ওয়াইফ।

ডাক্তারঃ Congratulations. আপনি বাবা হতে চলেছেন।

ডাক্তারের কথা শুনে ভাইয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলো। আসলে এটা খুশির কান্না।

তারপর ভাবিকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হলো। আমি খুব একটা ভাবির সাথে কথা বলি না। আর হে ভাইয়ার কাছেও তেমন হাত পাতি না।

সারাদিন ঘরে বসেই থাকি, কলেজেও হেটে হেটে যাই।

মাঝেমাঝে ইকরার কথা অনেক মনে পড়তো, কিন্তু চাইলেও ওর সাথে কথা বলতে পারতাম না। প্রতিদিন অনেকবার কল দিতাম কিন্তু নাম্বার অফ থাকতো।

এভাবে কিছুদিন গেলো, ভাবিও মোটামুটি সুস্থ, তবে একটা সমস্যা হচ্ছে ভাবি কোনো কাজ ঠিক মতো করতে পারছে না, আম্মুও অসুস্থ তাই ঘরের কাজ গুলো ঠিক ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে ইকরাকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসলো।

ওরে দেখেই আমার ভিতরটা কেঁদে উঠলো, ভাবি সামনে থাকায় কিছু বললাম না।

রাতের বেলা ইকরা আমার রুমের সামনে আসে, ওরে দেখেই আমি দৌড় দিয়ে ওরে জড়িয়ে ধরি। ইকরাও আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।

হঠ্যাৎ করে ইকরা আমাকে ছেড়ে দেয়, কিন্তু আমি তখনও ইকরাকে জড়িয়ে ধরে আছি, ইকরার এই অবস্থা দেখে আমি পেছনে তাকাই, তাকাতেই আমি অনেক বড় একটা ধাক্কা খেলাম, কারন পেছনে……..

#চলবে……
To be Continue……

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *