অসমাপ্ত ভালোবাসা পর্ব_০৫_ও_শেষ  । Koster Valobasar golpo

গল্পঃ অসমাপ্ত ভালোবাসা
#পর্ব০৫ও_শেষ (জুয়েল)

অসমাপ্ত ভালোবাসা সকল পর্ব

কষ্টের প্রেমের গল্প

(৪র্থ পর্বের পর থেকে)

বাসা থেকে বের হয়ে একটা নির্জন জায়গায় গিয়ে বসে রইলাম। বসে বসে কান্না করতেছি এমন সময় কেউ একজন আমার কাঁধে হাত রাখে। পেছনে তাকাতেই দেখি সানি আর আয়মান।

সানিঃ কিরে তুই এখানে? আমরা তোকে অনেক খুঁজেছি।

আমিঃ…….

আয়মানঃ চল এখন।

আমিঃ কোথায়?

আয়মানঃ বাসায়।

আমিঃ না আমার কাজ আছে, তোরা যা।

সানিঃ মন খারাপ করে বসে থেকে লাভ আছে? ফ্যামিলিতে একটু সমস্যা হয় এটা কোনো ব্যাপার না।

আমিঃ তোদের কে বলেছে?

আয়মানঃ আন্টি কল করে সব বলেছে। তুই বাসায় চল।

আমিঃ না আমি জীবনেও আর ওই বাসায় যাবো না।

সানিঃ দেখ তুই পাগলামি করিস না, চল বাসায় চল।

আমিঃ বললাম তো আমি যাবো না।

সানিঃ তো তুই কোথায় যাবি?

আমিঃ আমাকে তোদের চিন্তা করা লাগবে না। তোরা যা,,,,

সানিঃ সত্যিই যাবি না?

আমিঃ না।

আয়মানঃ কি করবি তাহলে?

আমিঃ জানি না, তবে এটা সিউর থাক যে আমি আর বাসায় যাচ্ছি না।

আয়মানঃ পড়ালেখার কি হবে?

আমিঃ জানি না। করবো না আর, করে লাভ কি?

সানিঃ দেখ এই সামান্য ঘটনার জন্য পড়ালেখা বন্ধ করিস না, তুই তোর ফ্যামিলিকে দেখিয়ে দে। তোর ভাবিকে বুঝিয়ে দে যে তাদের ছাড়াও তুই প্রতিষ্ঠিত হতে পারিস।

আয়মানঃ আচ্ছা এখন আমার সাথে আমাদের বাসায় চল। কি করবি সেটা পরে দেখা যাবে।

সানিঃ হুম সেটাই চল।

তারপর আয়মানদের বাসায় চলে গেলাম।

রাতে আমি সানি আর আয়মান ওদের ছাদের উপর বসে আছি বার বার ইকরার কথা মনে পড়তে লাগলো।

আয়মানঃ জুয়েল!

আমিঃ হুম বল।

আয়মানঃ একটা কাজ কর।

আমিঃ কি?

আয়মানঃ ইকরাকে উঠিয়ে নিয়ে আয়। তারপর বিয়ে কিরে নে।

আমিঃ নারে ইকরা ওর আব্বু আম্মুর উপরে কথা বলবে না। আর ইকরাকে আমি নিয়ে আসলে ভাইয়া আরর ভাবির ডিভোর্স হয়ে যাবে।

আয়মানঃ তাহলে কি করবি?

আমিঃ দোস্ত আমি ওরে ছাড়া থাকতে পারমু না।

আয়মানঃ তুই বাসায় ফিরে যা, দেখবি সব মেনে নিবে।

আমিঃ না, আমি ওয়াদা করেছি আমি ওই বাড়িতে গেলেও থাকবো না, শুধু আব্বু আম্মু ছাড়া কারো সাথে আর কথা বলবো না। যদিও যাই এক ফোটা পানিও খাবো না।

আয়মানঃ তুই একটা কাজ কর।

আমিঃ কি?

আয়মানঃ তুই চট্টগ্রাম চলে যা।

আমিঃ কেন?

আয়মানঃ ওখানে গিয়ে পড়ালেখাটা শেষ কর, ইকরার বয়স এখনো বেশি হয়নি। তুই ভালো কোনো চাকরি ফেলে এমনিতেই তোর কাছে বিয়ে দিবে।

সানিঃ হুম এটাই কর। আমার কয়েকটা ফ্রেন্ড ওখানে আছে। ওদের সাথে থাকবি পড়ালেখা করবি। আমি ওদের বলে দেবো যাতে তোর জন্য একটা চাকরি দেখে বা কয়েকটা টিউশনি দেখে যা খরচ টা অন্তত চালাতে পারিস।

আমিঃ ওকে, তাহলে তুই কথা বল।

সানিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

পরেরদিন আমি সানি আর আয়মান চট্টগ্রাম চলে গেলাম। সেখানে ফাহাদ হাকিম আর ইউসুফ নামের ৩ টা ছেলে আমাদের নিতে আসলো। পরে জানলাম এরাই সানির বন্ধু।

অবশেষে ওদের সাথে ব্যাচেলর উঠে গেলাম। আব্বু আম্মুর জন্য মন খারাপ থাকতো সব সময়।

সানি আর আয়মান আমাকে রেখে আবার ফেনীতে চলে আসে। ওদের সাথে মোবাইলেই কথা হয়।

মাঝেমাঝে আম্মুর সাথে কথা হয়, এভাবেই দিন যাচ্ছিলো। ফাহাদ হাকিমও আমাকে খুব ভালো বন্ধু হিসেবে দেখে। কয়েকটা টিউশনি করিয়েই দিন যাচ্ছে।

হঠ্যাৎ একদিন সানি কল দিয়ে বললো ইকরার বিয়ে হয়ে গেছে। আমাকে জানায় নি কারন আমি জানলে নাকি সমস্যা করতাম। সানিও শুনেছে বিয়ের কয়েকদিন পর।

ইচ্ছা করছে উড়ে ইকরার কাছে চলে যাই, কিন্তু পারলাম না। নিজেকে আর স্থির রাখতে পারলাম না। ফ্যামিলি এতো বড় গাদ্ধারি করবে কখনো কল্পনা করিনি।

আম্মুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আম্মু বলেছে তারাও নাকি বিয়েতে যায়নি। শুধু ভাইয়া আর ভাবি গিয়েছিলো। আর বিয়েটা ভাবিই দিয়েছে।

কিছু বললাম না আর, সেদিন অনেক গুলো ঘুমের মেডিসিন খেয়ে ফেলি নিজেকে সারা জীবনের জন্য ঘুমানোর জন্য কিন্তু সেটাও পারলাম না। ইউসুফ, ফাহাদ হাকিম তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়, অল্পের জন্য বেঁচে যাই।

পরে সানি আর আয়মানও আসে। কোনো কথা না বলে দুজনেই আমার গালে ঠাসস করে চড় বসিয়ে দেয়। তারপর জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে।

আমার চোখ দিয়েও পানি ঝরতে লাগলো।

আয়মান সানি ২ দিনে থেকে আবার ব্যাক করলো।

আমি সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকতাম।

কিছুদিন পর আম্মু কল দেয়….

আম্মুঃ কেমন আছিস?

আমিঃ ভালো, তোমরা?

আম্মুঃ আছি।

আমিঃ আব্বু কোথায়?

আম্মুঃ পাশে আছে। শোন তোকে একটা কথা বলার জন্য কল করেছি।

আমিঃ হুম বলো।

আম্মুঃ তোর ভাইয়ের মেয়ে হয়েছে, তুই কাকা হয়েছিস।

আমিঃ সরি তুমি ভুল বলছো। আমার কোনো ভাই নেই।

আম্মুঃ প্লিজ এভাবে বলিস না।যা হওয়ার হয়ে গেছে, এবার অন্তত বাড়িতে আয়।

আমিঃ নাহ, অন্য কথা থাকলে বলো।

আম্মুঃ অন্তত ছোট্ট মেয়েটাকে দেখে যা।

আমিঃ আমার সময় নাই, কখনো সময় ফেলে আসবো।

এ কথা বলে কল কেটে দিলাম। আম্মু কান্নাকাটি করলো বাট আমি যাইনি।

এভাবে মাস শেষ হয়ে বছরও শেষ আমি আর বাসায় যাইনি। ইকরার জন্য এখনো আমি কান্না করি। সত্যিই অনেক ভালো বাসতাম মেয়েটাকে। কিন্তু মেয়েটাও স্বার্থপর, ওর জন্য ঘর ছাড়া হলাম কিন্তু খুব সহজেই অন্য কাওকে বিয়ে করে নিলো। একবারও ভাবলো না আমার কথা।

প্রায় ২ বছর পর, আমি অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হলাম। ছোট একটা চাকরিও পেলাম, মাসে মাসে আব্বু আম্মুর জন্য টাকা পাঠাই যাতে ভাবি আব্বু আম্মুকে কিছু বলতে না পারে।

একদিন আব্বু কল দিলো। এমনিতে আব্বুর সাথে তেমন কথা বলি না, বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর একদিন বলেছি তাও ভুলে। আর আজকে আব্বু নিজেই কল দিয়ে বললো আম্মু নাকি অনেক অসুস্থ, শেষ বারের মতো আমাকে দেখতে চাইছে।

আব্বুর কথা শুনে নিজেকে স্থির রাখতে পারিনি, ব্যাগপত্র ঘুছিয়ে ফেনীর দিকে রওনা দিলাম।

অবশেষে ফেনী চলে আসলাম, সানি আয়মান দেখেই জড়িয়ে ধরলো তারপর ওদের কে সাথে নিয়ে বাসার দিকে পা বাড়ালাম, কিন্তু ওরা গেলো না। কলেজে কি একটা কাজ আছে নাকি, ওরা কলেজে চলে গেলো, আমি বাসার দিকে রওনা দিলাম।

ঘড়ির দিকে তাকালাম দেখি ১১ টা বাজে, একটা হোটেলে গিয়ে দুপুরের খাওয়ার টা প্যাকেট করে নিলাম। সাথে কয়েক বোতল পানি নিলাম। আব্বু আম্মুর জন্য কিছু জিনিষ নিয়ে আর ভাইয়ার মেয়ের জন্য কয়েক প্যাকেট চকলেট নিয়ে বাসায় গেলাম।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম, কি রকম অস্বস্তি লাগছে, শরীর কাঁপছে। কাঁপা কাঁপা শরীর নিয়ে কলিংবেল চাপ দিলাম।

ভিতর থেকে কেউ বললো দরজা খোলাই আছে, আমি ভিতরে গেলাম।

ছোট একটা পরিকে দেখে আমার চোখ আটকে গেলো। পরীটা আর কেউ নয় আমার ভাইয়ের মেয়ে। চেহারাটা একদম ভাইয়ার মতো।

পরীঃ কে গো তুমি?

বাহ! কথাও বলতে পারে।

আমিঃ তুমি কে, তোমার নাম কি?

পরীঃ আমার নাম তমা। তুমি কে?

আমিঃ আমি তোমার চাচ্চু।

তমাঃ তুমিই সেই যার জন্য দাদু প্রতিদিন কাঁধে? যাও তুমি পচা, তোমার সাথে কথা নাই।

আমিঃ ওলে ওলে বাবুটা রাগ করে দেখতেছি,,,

এটা বলেই তমাকে কোলে তুলে নিলাম।
তারপর চকলেট গুলো ওর হাতে দিলাম। ওরে কোলে নিয়ে আম্মুর রুমে গেলাম।

আম্মু আমাকে দেখেই কাঁদতে শুরু করলো। আমি গিয়ে সালাম করবো এমন সময় আমাকে জড়িয়ে ধরে সেকি কান্না, মা তো। ছেলের কষ্ট সহ্য করতে পারে না। আমিও মাকে জড়িয়ে ধরে রাখলাম কিছুক্ষণ।

মা আগের মতো নাই,শরীর পুরো ভেঙ্গে গেছে। আমি মায়ের পাশে বসে আছি, তমা আমার কোলে। এমন সময় আব্বু রুমে আসলো।

আব্বুর চোখেও স্পর্শ পানি দেখতে পেলাম, আব্বুও প্রায় কেঁধে দিলো।

অনেকক্ষণ পর ভাবি আসলো, আমি এসেছি যে হয়তো জানে না। আম্মুর রুমে কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে আসলো।

ভাবি আমাকে দেখে কিছুক্ষণ চেয়ে রইলো, কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমি উঠে তমাকে কোলে নিয়ে ছাদে চলে গেলাম।

মেয়েটা অনেক মিষ্টি, একদিনেই মন জয় করে নিলো। কিছুক্ষণ ছাদে থেকে নিজের রুমে গেলাম। সেই সব কিছুই আগের মতো আছে।

পুরোনো স্মৃতিগুলোর কথা মনে করে আমারও চোখের কোনে পানি জমা হলো।

তারপর আম্মুর কাছে গেলাম, গিয়ে আম্মুর পাশে বসে বসে কথা বলতেছি এমন সময় ভাবি আসলো সবাকে খাওয়ার জন্য ডাকছে।

আম্মুঃ চল খেতে চল।

আমিঃ আমি খাবার নিয়ে আসছি। তোমারাও আমার সাথে খাও।

আম্মুঃ কি বলিস, কোথায় থেকে আনলি?

আমিঃ হোটেল।

তারপর ব্যাগ থেকে খাবার বের করে আমি আব্বু আম্মু খেয়ে নিলাম। তমাকেও খাইয়ে দিলাম।

ভাবি কিছুক্ষণ অবাক হয়ে চেয়ে রইলো, তারপর নিজের রুমে চলে গেলো।

বিকালবেলা আমি চলে যাওয়ার জন্য রেড়ি হচ্ছি এমন সময় আব্বু বললো…

আব্বুঃ কোথায় যাচ্ছিস?

আমিঃ চলে যাচ্ছি।

আম্মুঃ কয়েকটা দিন থেকে যা।

আমিঃ মা আম্মু, কাজ আছে।

আব্বুঃ আজকের রাত টা থেকে যা।

আম্মুঃ প্লিজ বাপ না করিস না।

আমিঃ আচ্ছা।

বিকালবেলা বের হয়ে সানি আর আয়মানের সাথে আড্ডা দিলাম। মনটা একদম ফ্রেশ হয়ে গেলো।

রাতে বাসায় যাওয়ার সময় সানি আর আয়মানকেও নিয়ে গেলাম।কারন আমি ওই বাসায় থাকবো না, বিদায় নিয়ে চলে আসবো তাই।

বাসায় গেলাম, সানি আর আয়মান আম্মুকে দেখলো। কথা বললো, তমা এসে আমার কোলে উঠে গেলো।

কিছুক্ষণ পর ভাইয়া আসলো। আমি আম্মুর কাছেই ছিলাম। আমাকে দেখে দৌড় দিয়ে আসতে যাবে এমন সময় আমি মোবাইলটা কানে লাগিয়ে উলটো দিকে হাটা দিলাম। ভাইয়া নিশ্চিত বুঝেছে আমি ওর সাথে কথা বলবো না।

ভাইয়ার সাথে ভাবিও ছিলো, আমি মোবাইলটা কানে লাগিয়ে সানির কাছে চলে আসলাম।

ভাইয়াও আসলো….

ভাইয়াঃ কি অবস্থা তোমাদের?

সানিঃ জ্বি ভাইয়া ভালো।

ভাইয়াঃ আজকে সবাই খেয়ে যাবে।

আয়মানঃ আসলে ভাইয়া আম্মুকে বলে এসেছি, আম্মু অলরেডি খাবার রেড়ি করে ফেলেছে।

ভাইয়াঃ না এতো কথা আমি শুনবো না, আজকে খেতেই হবে।

ওরা আর কিছু বললো না, আমি মোবাইলটা আবারও কানে লাগিয়ে বাইরে চলে গেলাম।

বাইরে গিয়ে হোটেল থেকে খাবার নিয়ে বাসায় গেলাম।

আমার রুমে আমরা ৩ জন বসে আছি এমন সময় ভাবি আসলো, খাওয়ার জন্য ডাকছে। ওরা উঠে গেলো, আমাকেও উঠালো। আমি প্যাকেট টা হাতে নিয়ে ওদের সাথে ডাইনিং রুমে গেলাম।

ভাবি মনে করেছে আমিও খাবো তাই সবার আগে আমাকেই ভাত দিয়েছে কিন্তু আমি ওগুলো দূরে ঠেলে দিয়ে প্যাকেটটা খুলে প্যাকেটের উপর রেখেই খাওয়া দিলাম।

সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। আব্বু আম্মু আর খেলো না, ভাইয়াও রেখে উঠে গেলো।

তারপর রুমে এসে রেড়ি হয়ে নিলাম। সব কিছু নিয়ে বের হবো এমন সময় দেখি তমা নেই, মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে।

আব্বু আম্মুকে সালাম করে বেরিয়ে পরলাম, আম্মু কান্না থামাচ্ছেই না, ভাইয়া আর ভাবি এক কোনে দাঁড়িয়ে রইলো।

তারপর বেরিয়ে আয়মানদের বাসায় চলে গেলাম, রাতটা ওখানে থেকে পরের দিন আবার চট্টগ্রাম চলে গেলাম।

এরপর থেকে আম্মুর সাথে মোবাইলে কথা হয়, ভাইয়া নাকি সেদিন ভাবিকে অনেক বকাঝকা করেছে আমার পিচ্ছি আম্মুটা বললো। পিচ্ছিটার সাথে প্রতিদিনই আমার কথা হয়।

এভাবেই দিন যাচ্ছে, মাস শেষ হয়ে বছর। আমি মাস্টার্স কমপ্লিট করলাম, একটা কোম্পানির এমডি হলাম।

চাকরি বাকরি সব কিছু ভালো ভাবেই যাচ্ছে।

প্রতি সোমবার আমি পার্কে ঘুরি কারন ইকরাকে নিয়ে আমি সোম বারে পার্কে ঘুরতাম। আজকেও ঘুরতেছি এমন সময় ইকরার সাথে পার্কে ধাক্কা খেলাম (১ম পর্বে বলেছি, তারপর ইকরার আর আমার ঘটনাটা বললাম)।

রাতের বেলা আর ঘুম হয়নি, বার বার ইকরার কথা মনে পড়তে লাগলো।

সকালবেলা রেড়ি হয়ে অফিসে গেলাম। একজন কর্মকর্তা আসলো নাম আসিফ।

আসিফঃ স্যার আসবো?

আমিঃ হুম আসেন। কিছু বলবেন?

আসিফঃ জ্বি স্যার একটা কথা বলার ছিলো।

আমিঃ জ্বি বলুন।

আসিফঃ স্যার আমার কয়েকদিন ছুটি লাগবে।

আমিঃ কয়দিন??

আসিফঃ স্যার ৩ দিন হলে হবে।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে।

আসিফ চলে গেলো,এমন সময় আম্মু কল দিলো,কিছুক্ষণ কথা বললাম।

তারপর তমা মোবাইলটা নিয়ে কথা বলতে শুরু করলো, পরীটার কথা শুনে মন ফ্রেশ হয়ে গেলো। পরীটার নাকি জন্মদিন পরশুদিন আমি না গেলে কেক কাটবে না। তাই আমিও রাজি হয়ে গেলাম।

পরেরদিন আমি অফিস করে রাতের বেলা রওনা দিলাম, রাত ১১ টায় বার্থডে পালন হবে। অলরেডি চট্টগ্রাম থাকতে ১০ টা বেজে গেলো।

ড্রাইভারকে বললাম তাড়াতাড়ি চালাতে।

আমি ফেনীতে নেমে অনেক গুলো গিফট, একটা বড় কেক আব্বু আম্মুর জন্য কাপড় চোপড় নিলাম।।

সানি আর আয়মানকেও আসতে বললাম, ওরাও আসলো, তারপর ওদের নিয়ে বাসায় দিকে রওনা দিলাম।

বাসায় যেতে ১২.৪০ বেজে গেলো। তাড়াতাড়ি কলিং বেল চাপ দিলাম আর সাথে সাথেই একটা টাসকি খেলাম।

কারন দরজা খুলে দিয়েছে ইকরা।

আমি কিছুক্ষনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলাম। তারপর সানির ধাক্কা খেয়ে বাস্তবে ফিরে আসলাম। ভিতরে গেলাম, শুধু আব্বু আম্মুকে সালাম করলাম আর তাদের সাথে কথা বললাম।

ভাইয়া, ভাবি, ইকরা ওর আব্বু আম্মু কারো সাথে কথা বললাম না, সবাই আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে হয়তো ভাবছে এতোটা পরিবর্তন কি করে সম্ভব।

তমা একটা লাফ দিয়ে আমার কোলে উঠে গেলো।

একটু পর ভিতরের রুম থেকে আসিফ আসলো, মানে আমার অফিসের কর্মচারী। আমাকে দেখেই…..

আসিফঃ স্যার আপনি এখানে?

আমিঃ আরে আসিফ সাহেব যে।

আসিফঃ জ্বি স্যার। স্যার আপনি এখানে আসলেন কি করে?

আমিঃ ওই যে আমার আব্বু আম্মু। (শুধু আব্বু আম্মুকে দেখিয়ে দিলাম)

আসিফঃ ওহ তাহলে তো আপনি আমার আত্নীয়।

আমিঃ হয়তো, আপনি কার কি হন?

আসিফঃ জ্বি আমি আপনার ভাইয়ের ভায়েরাভাই। মানে ইকরার হাসবেন্ড।

কথাটা শুনে মনটা কেঁপে উঠলো, ইকরা নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো।

ইকরার আব্বু বললো….

আংকেলঃ আসিফ তুমি ওকে কি করে চেনো?

আসিফঃ আরে বাবা কি বলেন! উনিই তো আমাদের কোম্পানির এমডি, আমাদের স্যার। অনেক ভালো মানুষ,,,,,

আংকেল নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর আমি আসিফকে বললাম অনুষ্ঠান শুরু করার জন্য। অন্য কাওকে কিছু বলিনি। ইকরার দিকে যতবার তাকাচ্ছি ততবার আমার কলিজা ফেটে যাচ্ছে।

তারপর কেক কাটলো, তমা সবার আগে আমাকে খাইয়ে দিলো, আমিও শুধু তমাকে খাইয়ে দিলাম। তমা একেএকে সবাইকে খাইয়ে দিলো, সবাই তমাকে খাইয়ে দিলো।

ভাইয়া বার বার আমার দিকে তাকালো কিছু বলতে চাইলেই আমি অন্যদিকে তাকিয়ে থাকি। কেক কাটা শেষে আমি তমার হাতে সব গুলো গিফট তুলে দিলাম।

তারপর আম্মু আব্বুর জন্য নিয়ে আসা জিনিষ গুলো উনাদের হাতে দিলাম।

দেখলাম সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে তাই আমি আম্মুর রুমে চলে গেলাম। আম্মু আব্বুও আমার পিছু পিছু আসলো,,,,

আম্মুঃ আজকেও ওদের সাথে কথা বলবি না, এতো পাষাণ হয়ে গেছিস?

আমিঃ আমার কোনো ভাই বোন নেই, শুধু তুমি আব্বু আর তমা ছাড়া।

আম্মুঃ তো তমা কোত্থেকে আসলো তাহলে?

আমিঃ……

একটু পর তমাও আসলো, এসে আমার কোলে উঠে গেলো। হঠ্যাৎ করেই চোখ পড়লো আম্মুর খাটে একটা বাচ্ছার দিকে, কি সুন্দর ফুটফুটে বাচ্ছা। দেখে মনে হচ্ছে একটা জান্নাতি হুর ঘুমিয়ে আছে।

আমিঃ এই বাচ্ছাটা কার?

তমাঃ আরে এটা আমার খালাতো বোন, ইকরা আন্টির মেয়ে।

কথাটা শুনে আরো একটা ধাক্কা খেলাম। মাত্র ৫ বছরে সব কিছুই চেইঞ্জ হয়ে গেছে।

না আর এখানে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না, আমার শরীর কাঁপতেছে। আম্মুকে বললাম আমি চলে যাচ্ছি অনেকবার থাকতে বলেছে বাট থাকিনি।

আম্মুর রুম থেকে বের হয়ে দেখি সানি, আয়মান আর আমার ড্রাইভার খাওয়ার জন্য ডাইনিং এর দিকে যাচ্ছে।

আমিঃ সাহেদ ভাই (ড্রাইভার) চলেন, আমরা চলে যাবো।

সানিঃ আরে ভাবি তো আমাদের খেতে ডাকছে।

আমিঃ বাইরে খেয়ে নিবো। চল,,,,

আয়মানঃ কিন্তু সবাই তো একসাথে খাবে এখানে।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে তোরা খেয়ে বাসায় চলে যাস। আমি যাচ্ছি, সাহেদ ভাই আসেন।

সানিঃ না দাঁড়া, আমরাও আসছি।

আমিঃ ওকে আয়, আপনি গিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেন।

সাহেদ ভাই বাইরে চলে যায়, আমি আব্বু আম্মুকে সালাম করে নিলাম, সবার দিকে একবার তাকালাম, ভাইয়ার চোখে পানি টলোমলো করছে, ইকরা আর বাকিরা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।

তমা এসে আমার কোলে উঠে যায়,,,,,

তমাঃ চাচ্চু, ও চাচ্চু তুমি কোথায় যাচ্ছো? আমাদের সাথে থাকতে পারো না।

আমিঃ না আম্মু আমার থাকার কোনো যোগ্যতা নেই, আমি ফ্যামিলিতে টাকা দিতে পারবো না। আমি হচ্ছি কুলাঙ্গার, ফালতু ছেলে। আমি এখানে থাকলে তুমিও খারাপ হয়ে যাবে।

তমাঃ তুমি তো আমার ভালো চাচ্চু। ওরা সবাই পচা,,,

আমি তমার কোলে একটা পাপ্পি দিয়ে ওকে নিয়ে বাইরে যাই, সবাই হয়তো বুঝে গেছে আমার কথার মানে। আসিফও বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে।

তমাকে নিয়ে বাইরে গেলাম, আমার পিছু পিছু সবাই আসলো, সানি আর আয়মানকে গাড়িতে উঠতে বললাম। তমার হাতে কতো গুলো টাকা দিয়ে তমাকে আম্মুর কোলে দিয়ে শেষ বারের মতো সবার দিকে তাকিয়ে গাড়িতে উঠে গেলাম। সাহেদ ভাই গাড়ি টান দিলো। আম্মু কান্না শুরু করলো। আমারও চোখ দিয়ে পানি ঝরতে লাগলো।

কিছুদূর গিয়ে আমরা একটা হোটেলে খেয়ে নিলাম, সানি আর আয়মানকে বিদায় দিয়ে আবার চট্টগ্রাম এর দিকে রওনা দিলাম।

গাড়ি চলছে তার আপন মনে, আমি হারিয়ে গেছে ফেলে আসা
সেই অতীতে। হয়তো আজকে আমারও খুব সুন্দর একটা ফ্যামিলি থাকতো। আমিও অন্য দশজনের মতো থাকতে পারতাম।

সামান্য একটা চাকরির জন্য হারালাম নিজের ভালোবাসাকে, ছেড়ে দিলাম ফ্যামিলিকে। সব কিছু থেকেও অনাথ, হয়তো আজকে আমিও ইকরাকে নিয়ে অনেক সুখে থাকতাম। স্বপ্ন দেখতাম অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার।

কিন্তু নিয়তি কোথায় থেকে কোথায় নিয়ে যায় সেটা কেউ বলতে পারে না। সবার ভাগ্যে সব কিছু থাকে না। সব কিছুর সমাপ্তি নেই, কিছু গল্প অসমাপ্ত থেকে যায়। তবুও ভালো থাকুক প্রিয় মানুষ গুলো।

সবার সব কিছু থাকুক পূর্ণ, আমার জীবনটা নাহয় তাকবে দুঃখে পরিপূর্ণ, এটাই আমার অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প।

******** সমাপ্ত *********

@ এম.এইচ.জুয়েল

বিঃদ্রঃ গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিলো, বাস্তবে কিছুই হয়নি। গল্পটি লেখার সময় একটু ডিপ্রেশন এর মধ্যে ছিলাম, তাই ভালোভাবে লিখতে পারিনি।

জানি না কেমন লাগলো আপনাদের! তারপরেও কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে, নতুন শুরু করবো নাকি????? *******

Related Posts

4 thoughts on “অসমাপ্ত ভালোবাসা পর্ব_০৫_ও_শেষ  । Koster Valobasar golpo

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *