একটু বেশিই অভিমানী পার্ট-০৩

গল্পঃ- একটু বেশিই অভিমানী 💖
পার্ট -০৩
#অদ্রিতআল মাসুদ


একটু বেশিই অভিমানী সকল পর্ব

.
আমার নাম সাগর ।আমার বাড়ি এই শহরেরই।এই শহরের সব নাম করা ব্যবসায়ী রাকিব চৌধূরীর ছেলে আমি।তিন ভাই-বোনের মতো আমি ছোট হওয়ার কারণে সব সময় সবার কাছে থেকে একটু বেশিই আদর পেতাম।
.
দেখতে দেখতে আমি বড় হলাম।আমার বড় বোনের বিয়ে হল।তার কিছুদিন পরই আমার বড় ভাইয়েরও বিয়ে হল।তখন আমার আদর পাওয়াটা একটু বেশি হয়ে গেল।
.
আমি ছোট থেকেই অনেক দুষ্টু ছিলাম।সব সময় আমার দুষ্টুমি দিয়ে সবাইকে মাতিয়ে রাখতাম।আমার পড়ালেখা শেষ হওয়ার পর বাবা আমাকে আমাদের ব্যবসায় হাত দিতে বলে।
.
কিন্তুু আমি নিজে কিছু করতে চেয়েছিলাম।তাই আমি অন্য একটি কোম্পানিতে যোগ হয়।এতে আমার পরিবারের কোন আপত্তি ছিল না।একদিন অফিস থেকে ফিরে খাওয়ার সময় বাবা আমাকে বলল..
.
—সাগর।(বাবা)

—হ্যাঁ,বল।(আমি)

—কালকে তুই অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিস।

—কেন?

—এক জাগায় যাব।

—কোথায়?

—তোর জন্য মেয়ে দেখতে।

—কি?😱

—হ্যাঁ।

—আমি যেতে পারব না।

—কেন?তোর কি কোন পছন্দ আছে নাকি?যদি থাকে তাহলে আমাদের বল।আমরা মেয়েটিকে দেখি আর তার পরিবারের সাথে কথা বলি।(মা)

—মা,তোমরা ত জান আমার কোন পছন্দ নাই।

—তাহলে বিয়ে করতে তোর সমস্যা কি?(ভাইয়া)

—আমি এখন বিয়ে করতে চাই না।

—কেন?

—কিছুদিনই ত হলো পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করচ্ছি আর এত তাড়াতাড়িই বিয়ে করব?

—তাতে কি হয়েছে?

—না।আমার আরও কিছুদিন সময় চাই।

—আমি কিছু শুনতে চাই না।কালকে তুমি আমাদের সাথে মেয়ে দেখতে যাচ্ছ এইটাই আমার শেষ কথা।
.
বাবা কথাটা বলে চলে গেল।আমিও আর কি করতে পারি বাবার কথা মতো ছুটি চেয়ে নিলাম।পরেরদিন যথা সময়ে আমরা মেয়ে দেখতে গেলাম।
.
মেয়ের নাম মিশু।মেয়েকে দেখে আমাদের সবার পছন্দ হল।প্রথমে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম না।কিন্তুু মিশুকো দেখে আর না করতে পারলাম না।
.
তার পরের মাসেই আমাদের বিয়ে হয়ে যায়।আমাদের সংসার ভালই চলছিল।বিয়ের ছয়মাস পর মিশুর পেটে আমার মেয়ে আসে।
.
মিশুর বাচ্চা হবে জেনে আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম।মা আর ভাবী মিশুকে কোনো কাজ করতে দিত না।সব সময় আমার থেকেও বেশি আদর করত।
.
আমিও মিশুকে আরও বেশি করে সময় দিতে লাগলাম।আমাদের মেয়ের বয়স যখন তিনমাস তখন একদিন রাতে আমি অফিস থেকে এসে খেয়ে শুয়েছিলাম তখন মিশু আমার কাছে আসে।
.
—তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাস করার ছিল।(মিশু)

—কি?(আমি)

—তুমি আজকে দুপুরে কোথায় ছিলে আর কি করচ্ছিলে?

—অফিসের কাছে ছিলাম।কেন?

—আমাকে মিথ্যা বলছ কেন?

—আমি তোমাকে মিথ্যা বলচ্ছি না।

—মিথ্যা বলছ না ত কি?আমি তোমাকে আজকে নিজের চোখে একটা হোটেল থেকে বের হতে দেখেছি আর সাথে একটা মেয়েও ছিল।মেয়েটির সাথে তুমি হোটেল রুমে কি করছিলে?এমন আরও কয়টা মেয়ের জীবন নষ্ট করেছ?

—ঠাস ঠাস।

—তুমি আমাকে মারলে?

—মারব না ত কি করব?তুমি ভাবলে কি করে আমি তোমাকে ঠকাব?তাছাড়া তুমি এই অবস্থায় বাড়ির বাহিরে গিয়েছ কেন?

—আমি আজকে যদি বাড়ির বাহিরে না যেতাম তাহলে ত কখনও জানতেই পারতাম না তুমি একটা চরিএহীন পুরুষ।

—ঠাস ঠাস।

—তুমি আমাকে আবার মরলে?আমি থাকব না তোমার কাছে।

—তুমি সবসময় এত বেশি বুঝ কেন?

—কিসের বেশি বুঝলাম?আগে বল তুমি মেয়েটার সাথে হোটেল এ কি করচ্ছিলে?

—ঐ মেয়েটা আমার ম্যাডাম।আজকে একটা মিটিং ছিল তাই আমাকে নিয়ে হোটেলে গিয়েছিল।

—বিশ্বাস করি না তোমার কথা।

—বিশ্বাস না করলে আমার কিছু করার নাই।
.
এই নিয়ে সেইদিন আরও অনেক ঝগড়া হয়।তারপর ঘুমাতে চলে যাই।এইভাবেই চলতে থাকে দিন।কিছুদিন পর আবার ঝগড়া হয়।
.
কারণ আরও একটা মিটিং এর জন্য আমি আর ম্যাডাম গিয়েছিলাম।সেখানে গিয়ে দেখি যাদের সাথে মিটিং হবে তারা এখনও আসে নি।
.
তাই আমি আর ম্যাডাম বসে বসে কফি খেতে লাগলাম।এইটা আবার মিশুর কোনো এক বান্ধুবী দেখে ছবি তুলে মিশুকে দিয়ে দেয়।
.
বাড়িতে যাওয়ার পর আবারও সেইদিনের মতো অনেক ঝগড়া হয়।মিশু হয়ত ভাবছিল আমি অন্য কোন মেয়ের সাথে নতুন করে সম্পর্কে গিয়েছি।
.
নাহলে অন্য কোন কারণ হতে পারে।দেখতে দেখতে মিশুর পেটে আমার সন্তানের বয়স ছয়মাস হয়ে যায়।একদিন রাতে বাড়িতে যাওয়ার পর আমার সাথে যা হলো আমি কখনই বিশ্বাস করতে পারি নাই আমার সাথে এমন কি কখনও হতেও পারে।
.
#চলবে

বিঃদ্রঃ ব্যস্ততার কারণে খুব একটা লেখার সময় পাইনা। ভূল ত্রুটি মার্জনীয়♥

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *